আন্তর্জাতিক সংবাদ

মুসলিম বন্দির সঙ্গে দিল্লি জেল সুপারের নৃশংসতা

ভারতের সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত কারাগার হিসেবে পরিচিত তিহার জেলে ভয়ানকভাবে মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে। শাব্বির নাবির নামের এক মুসলিম বন্দিকে হিন্দুধর্ম গ্রহণে চাপাচাপি ও তার ওপর চালানো অমানুষিক নির্যাতনের খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। জেলসুপারের কথামত হিন্দুধর্ম গ্রহণ না করায় লোহার শিক গরম করে নাবিরের পিঠে লেখা হয় হিন্দু দেবতার নাম ‘ওম’। শুক্রবার দিল্লির একটি আদালতে জেল সুপারের বিরুদ্ধে বন্দি নাবির নিজেই চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার বর্ণনা দেন।

দিল্লির কড়কড়ডুমা আদালতে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান মামলায় জেল হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য তাকে পেশ করা হয়েছিল৷ সেখানেই অমানবিক এ নির্যাতনের কথা জানিয়ে নাবির নিজের জামা খুলে তার পিঠের চিহ্নটি বিচারপতিকে দেখান।দেখা যায় ওই বন্দির বাঁ-কাঁধের একটু নিচে প্রায় ৬ ইঞ্চি বড় ওই ‘ওম’ চিহ্নটি খোদাই করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। তবে নাবিরের অভিযোগ অস্বীকার করে জেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, যদি জোর করে ওই চিহ্নটি খোদাই করা হত, তাহলে এত নিখুঁতভাবে সেটি আঁকা যেত না। অবশ্য জেল কর্তৃপক্ষের এ বক্তব্য গ্রহণ করেনি আদালত।

কারা বিভাগের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব প্রিজনকে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি অন্যান্য বন্দিদের জবানবন্দিও নিতে বলেছেন। পাশাপাশি জেলের বন্দিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টি যাতে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়, সেই ব্যাপারেও নির্দেশ দেয়া হয় কারা কর্তৃপক্ষকে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি তিহার জেল কর্তৃপক্ষ। কী ভাবে একজন বন্দির গায়ে এই ধরনের চিহ্ন আঁকা হল, তা নিয়ে মুখ খুলেননি তারা।

হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, দিল্লি পুলিশ ২০১৭ সালে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শাব্বির নাবিরকে গ্রেফতার করে। অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। ভারতের কারাগারে মুসলিম বন্দিদের প্রায়ই নির্যাতনের কথা আলোচনায় এসেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে হিন্দু বন্দিদের আক্রমনে পাকিস্তানি এক মুসলিম নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

Comment

লেখক পরিচিতি

মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী

মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী— প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক। জন্ম ০১ মার্চ, ১৯৮৪। কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলাধীন বেতুয়া গ্রামে জন্ম এবং বেড়ে উঠা। পিতা কুমিল্লা জেলার প্রখ্যাত ওয়ায়েজ ও মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.)।
কুমিল্লা জেলার ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পাশ করেন। পাশাপাশি কওমি শিক্ষাধারায়ও কিছুদিন পড়াশুনা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রিও অর্জন করেন।
দীর্ঘদিন যাবত দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে লিখছেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।