আন্তর্জাতিক সংবাদ

ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বোলখিয়ার রহস্যঘেরা জীবন

অকস্মাৎ বিশ্বের মানুষের ঘরে ঘরে এখন ব্রুনাই সুলতানের নাম। সুলতান হাসানাল বোলখিয়া চরিত্রহীন গল্পের ভেতর দিয়েই তিনি নিজের দেশে ঘোষণা করেছেন শরীয়া আইন। যা বিশ্বব্যাপী চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকে বলছেন, তার নিজেরই নেই চরিত্র ঠিক তিনি কীভাবে শরীয়া পরিপালন করবেন। ২৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদের মালিক এই সুলতানের রাজপ্রাসাদেই রয়েছে একাধিক ‘হেরেম’, যেগুলোতে রয়েছে বিশ্বের নানা দেশ থেকে আনা সুন্দরী যৌনদাসীরা। এসব নিয়ে ছাপা হয়েছে, বহু খবর, লেখা হয়েছে বই।

সুলতানের যৌনবিলাস ও হেরেমের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ১৯৯৭ সালে। সে বছরের মিস যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচিত হওয়া শ্যানন মার্কেটিক মার্কিন আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সুলতানের বিরুদ্ধে। তিনি জানান, যৌনতার জন্য প্রতিদিন ৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে ব্রুনাইয়ে নেয়া হলেও যৌনদাসীর মতো করে তাকে ব্যবহার করেছেন সুলতান। ২০১০ সালে ব্রুনাই রাজপ্রাসাদের হেরেমে (রাজকীয় পতিতালয়) থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লেখেন মার্কিন লেখিকা জুলিয়ান লরেন। বইটির নাম ‘সাম গার্লস: মাই লাইফ ইন হেরেম’। এ বইয়ে তিনি জানান, সেই হেরেমে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা বহু কিশোরী মেয়ে ছিলো। তাকে সুলতানের ভাই জাফরি বোলখিয়ার জন্য নেয়া হয়। তবে একদিন আকস্মিক বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয় মালয়েশিয়ায়। সেখানে সুলতান হাসানাল বোলখিয়াও তার সঙ্গে যৌন কর্ম করেন।

সুলতান হাসানাল বোলখিয়া ব্রুনাই এর সকল ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি। তিনিই দেশটির সর্বোচ্চ ইসলামিক নেতা। একাধারে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, সুলতান হাসানাল বোলখিয়া ব্রুনাইয়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং কমান্ডার অব দ্য আর্মড ফোর্সেস। এমনকি ব্রুনাই এর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরও তিনি। ব্রুনাইয়ের সুলতানের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী শাসকদের একজন তিনি

একদিকে ওই কঠোর ও বিতর্কিত শরিয়াহ আইন প্রয়োগ করছেন অন্যদিকে ব্যাপক সম্পদে-ভোগবিলাসে অধঃপতিত জীবন অতিবাহিত করছেন ব্রুনাইয়ের সুলতান। তার নিজেরই প্রাইভেট জেট বিমান রয়েছে। শুধু তাই নয়, একবার তার বার্থডে পার্টিতে গান গাইতে মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে আসা হয়। পৃথিবীতে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শাসকদের মধ্যে ব্রুনাইয়ের সুলতানের অবস্থান দ্বিতীয়। তার আগে, প্রথমস্থানে রয়েছেন ব্রিটেনের দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ৫২ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন ব্রুনাইয়ের সুলতান। তিনি তার বাবার নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা পেয়েছেন।

ব্রুনাইয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার। তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে সম্পদশালী হয়েছে দেশটি। কিন্তু দেশটির জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ দারিদ্র্যের মধ্য বসবাস করে। কিন্তু কথিত আছে, তেলসম্পদ থেকে ব্রুনাইয়ের সুলতানের প্রতি সেকেণ্ডে আয় ১৪৭ ডলার বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রাজকীয় প্রাসাদে বসবাস করেন এই সুলতান যার নাম ইনস্তানা নুরুল ইমান প্যালেস। ব্রুনাই নদীর তীরে অবস্থিতে এই রাজকীয় প্রাসাদে ১৮০০ ঘর রয়েছে। এই রাজপ্রাসাদটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এতে রয়েছে পাঁচটি সুইমিংপুল, কয়েকটি মসজিদ। এই প্রাসাদে রয়েছে বহু হেরেমও।

প্রাসাদের বেঙ্কুয়েট হলে ৫ সহস্রাধিক অতিথি অবস্থান করতে পারে। শুধু তাই নয়, এই রাজপ্রাসাদটি বহু সোনা ও হীরকখণ্ড দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। সুলতান হাসানাল বোলখিয়ার বিলাসবহুল গাড়ির বিষয়ে অতি আসক্তি রয়েছে। তার সংগ্রহে যেসব বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে তার সর্বমোট মূল্য ৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রয়েছে রোলস রয়েস, ফেরারি, বেন্টলেস, ল্যাম্বরগিনি, অ্যাস্নট মার্টিন এবং জাগুয়ার। প্রাইভেট প্লেনের একটি বহর রয়েছে এই সুলতানের। এই বহরে রয়েছে ১৩৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের এয়ারবাস, ২৫১ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের বোয়িং ৭৬৭ প্লেন এবং বিশেষ ধরনের বোয়িং ৭৪৭ প্লেন। এই প্লেনের দাম ৪৩১ মিলিয়ন ডলার। এই প্লেনটি স্বর্ণ দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।

সুলতান বোলখিয়ার ব্যাডমিন্টন কোচের বেতন ২ মিলিয়ন বা ২০ লাখ ডলার। সুলতান প্রাইভেট প্লেনে চড়ে তার প্রিয় স্টাইলের চুল কাটতে সেলুনে যান। শুধু তাই নয়, ম্যাচিং করে জুতা পরে হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি কেনাকাটায় বেরিয়ে পড়েন। সুলতান হাসানাল একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে ৩৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার খরচ করেন। এই অনুষ্ঠানে ছিল পোলো ম্যাচ, ক্যাভিয়ার সহ গালা ডিনার। এই অনুষ্ঠানে তিনটি কনসার্টে মাইকেল জ্যাকসনকে দেওয়া হয় ২৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। তিনটি বিয়ে করেছেন সুলতান। আর এই তিন বিয়েতে তিনি কোটি-কোটি টাকা ব্যয় করেছেন বলে জানা গেছে। ১৯৬৫ সালে তিনি তার কাজিন আনাক সালেহাকে বিয়ে করেন। এরপরে তিনি আরো দুজনকে বিয়ে করেন এবং ডিভোর্স দেন।

Comment

লেখক পরিচিতি

জাহিদ হাসান মিলু

আমি জাহিদ। সরকাারি কাগজপত্রের জাহিদুল ইসলাম থেকে বেসরকারি কাগজপত্রে জাহিদ হাসান মিলু- নামের এই বিচিত্র পরিবর্তনের পেছনে একটা মিষ্টি গল্প আছে।
জন্মেছি গোপালগঞ্জ জেলার অখ্যাত গ্রাম প্রশন্নপুরে, ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে। কী এক বিশেষ কারণে যেন কাগজকলমে বয়েস কমিয়ে আমাকে আরও তিনবছরের ছোটো করে রাখা হয়েছে। বাবা মা দুজনেই অক্ষর না শিখেও আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম স্বাক্ষর হয়ে আছেন।
অবুঝ বয়েসে পারিবারিক স্বপ্নের কারণে ভর্তি হতে পেরেছিলাম মাদ্রাসায় , আলহামদুল্লিলাহ। জীবনের সবথেকে বড় পারিবারিক গিফ্ট ছিল এটা আমার জন্য। কুরআন পড়তে শিখলাম, মুখস্থ করতে পারলাম। অর্থ জানলাম এবং ব্যাখ্যাও পড়লাম।
আমাদের পাড়ার মাদ্রাসা কুলিয়ার ভিটায় পড়ার সময় ধর্মের প্রতি আমাদের ভেতরে যে বীজটা রোপিত হয়েছিল, সেটা ডালাপাল মেলে খোলা হাওয়ায় বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় প্রাণের প্রতিষ্ঠান এরাবিল মডেল মাদ্রাসায়। তারপর? তারপর আর কি- এখন পড়াশোনা করছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম বিভাগে।
দায়ী হওয়ার স্বপ্ন আমার সবথেকে বড় স্বপ্ন। স্বপ্নটি পূরণ করতেই পড়ছি, শুনছি, দেখছি, শিখছি এবং অপেক্ষা করছি।